৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সবচেয়ে কম টাকার শ্রমিক মসজিদের ইমাম

মোঃ বেলাল হোসাইন : ইসলামের দৃষ্টিতে একজন ইমামের গুরুত্ব এবং মর্যাদা অপরিসীম। এই পদবী যেমন মর্যাদাপূর্ণ তেমনি সম্মানের। একজন ইমাম শুধুমাত্র একটি মসজিদের ইমাম নন তিনি সংশ্লিষ্ট সমাজেরও ইমাম। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (স:) এর সময়কাল থেকে চার খলিফার সময়কাল, সাহাবা, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তী সময়কাল পর্যন্ত ঈমামদের মর্যাদা ছিল অতিব সম্মানজনক। নবী করিম (স:) এর সময়কালে তিনি নিজেই মসজিদের ইমামের দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব একসাথে পালন করেছেন। পরবর্তী সাহাবা, তাবেঈন এবং তাবে-তাবেঈনরা মসজিদের ইমামতির পাশাপাশি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। অনেকাংশে রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুত্বের চাইতেও মসদিদের ইমামের মর্যাদা এবং গুরুত্ব বেশি ছিল।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মধ্যকার উত্তম ব্যক্তিকে তোমাদের ইমাম নিয়োগ করবে। কারণ তিনি হবেন তোমাদের পক্ষে তোমাদের প্রতিপালকের প্রতিনিধি।’ (দারাকুতনি, হাদিস : ১৮৮১)
অপর একটি হাদিসে এসছে; হজরত রাসুলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন দুই শ্রেণির মানুষ মেশকের তৈরি টিলার ওপর অবস্থান করবে। এক. ওই গোলাম যে আল্লাহ ও তার মনিবের হক আদায় করেছে। দুই. এমন ইমাম যে কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি করছে, আর তারা তার প্রতি সন্তুষ্ট।
কালের বিবর্তনে বর্তমানে মসজিদের ইমামকে মসজিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। অতীব দু:খের সাথে বলতে হয়, সামাজিক মর্যাদা স্থান, কাল, পাত্রভেদে কম-বেশি থাকলেও আমাদের দেশে বর্তমানে সবচেয়ে কম বেতনে একমাত্র মসজিদের ইমামকেই পাওয়া যায়। যেখানে এখন কোন শ্রেণী পেশাতেই দৈনিক মজুরী সর্বনি¤œ ৫০০ টাকা সেখানে বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থানেই এখনো ৫-৭ হাজার টাকায় মসজিদের ইমাম নিয়োগ প্রদান করা হয়। নিয়োগের ২-৩ বছর পরে মসজিদ কমিটি বরাবরে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ হলে জুমা’র নামাজ পরবর্তী সময়ে সমাজের তথাকথিত সমাজপতিগণ ইমামকে কটাক্ষ করে সম্মিলিত আলোচনায় অংশ নেন। ইমামের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব যেন তাদের মাথার উপর বাড়ি পড়া কিংবা আসমান ভেঙ্গে পড়া। অথচ এসব সমাজপতিগণ মসিজেদ ৫০-১০০ টাকার বেশি মাসিক বেতন দেন না। মুরুব্বীদের এমনও বলতে শোনা যায়, মসজিদের ইমামতিতে আল্লাহর রহমত আছে, অল্প বেতনেই আল্লাহ তাদের সংসার চালিয়ে নেন। এমন অনেক কটু কথা শুনিয়ে সবশেষে ৫০০-১০০০ টাকা বেতন বাড়িয়ে দায় সাড়েন এসব সমাজপতিগণ।
৫-৭- হাজার টাকা বেতনে চাকুরী করা একজন ইমামের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়। দ্রর্বমূল্যের উর্ধ্বগতির হালের বাজার ৪-৫ সদস্যের ছোট্ট একটি সংসার চালাতে যেখানে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয় সেখানে মসজিদের একজন ইমাম কিভাবে এত অল্প টাকায় সংসার চালায়? ফলশ্রæতিতে সংসার চালানোর চায়ে অনেক ইমামকেই দোয়া অনুষ্ঠান, মিলাদ, মাহফিলের উপর নির্ভর করতে হয়। বিতর্কিত এই নির্ভরশীলতার প্রভাব পড়ে তাদের ব্যক্তিত্বের উপর। সমাজের অনেকেই কটুবাক্যে জর্জরিত করেন ইমামদের।
মসজিদের ইমামদের প্রতি সমাজপতিদের এহেন আচরণের প্রভাব পড়েছে সমগ্র সমাজ এবং দেশে। আজকাল সমাজে এসব কারণেই ইমামদেরকে ছোট চোখে, কটাক্ষের চোখে মুল্যায়ন করা হয়। মসজিদের ইমাম একটি সমাজেরও ইমাম এসব ভাবতেই রাজী নয় বর্তমান সমাজ।
মসজিদের ইমামদেরকে উপর্যুক্ত বেতন এবং সুযোগ সুবিধা প্রদান করলে তারা অন্য কাজে মনোযোগ না দিয়ে সম্পূর্ণ পরিমানে সংশ্লিষ্ট মসজিদ এবং সমাজমুখি হবে। মসজিদে, মক্তবে তাদের সময় দেওয়া বাড়বে। এর মাধ্যমে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে উঠবে। আলোকিত সমাজ থেকেই সৃষ্টি হবে আলোকিত মানুষ।

সবুজ বাংলা নিউজ পরিবার

জিয়াউর রহমান হায়দার

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮১৭ ৪৫০০৯৬

মোঃ নাজমুল হক

নির্বাহী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৭১০ ৯১৩৩৬৬

রানা মিয়া

সহযোগী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮৮১ ১৪১৮৬৬