৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

স্বাধীনতা যুদ্ধে কুমিল্লার প্রথম মুক্তাঞ্চল জগন্নাথদীঘিতে নেই কোন স্মৃতিস্তম্ভ

ফাহাদ আহমেদ পাটোয়ারী: ২৮ নভেম্বর জগন্নাথদীঘি মুক্ত দিবস। চৌদ্দগ্রামের যত মুক্তিযোদ্ধা আছেন তাদের প্রাণে ২৮ নভেম্বর দিনটি আসলেই আনন্দ ক্ষণের বাজনা বেজে উঠে, দোলা দেয় হৃদস্পন্দন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অতর্কিত হামলা মোকাবেলায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মত জগন্নাথদীঘি অঞ্চলের মানুষরাও করেছেন মরণবাজি সংগ্রাম। যখন দেশের বিভন্ন অঞ্চল স্বাধীন হতে থাকে। তখন ১৯৭১ সালের ২৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের অনবদ্য সংগ্রামে মুক্ত হয় কুমিল্লার চৌদ্দতগ্রামের জগন্নাথদীঘি। এটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রথম মুক্তাঞ্চল। ১১ নভেম্বর বেতিয়ারায় ৯ জন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েও এই অঞ্চলের যোদ্ধারা মানসিকভাবে দূর্বল হননি।

লক্ষ্য স্থির রেখে নিজেদের মানসিক শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দীঘির পাড়ে (জগন্নাথদীঘি) থাকা সেনাবাহিনী ক্যাম্পে (জং ঘাঁটি) বারবার হামলা চালানোর চেষ্টা করে এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা। এদের বেশিরভাগ যোদ্ধা ছিলেন ত্রিপুরার বড়টিলা (ভারত) থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ২৭ নভেম্বর ভোররাতে দীঘির পাড়ে অবস্থিত ক্যাপ্টেন জংয়ের ঘাঁটি পতন ঘটে এবং এর মাধ্যমে জগন্নাথদীঘির উত্তর-দক্ষিনে ১০ কিলোমিটার শত্রুমুক্ত হয়। পরদিন সকাল দশটায় জংয়ের ইপিআর ক্যাম্পে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে মুক্ত হওয়া জগন্নাথদীঘি অঞ্চলটি কুমিল্লা তথা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রথম মুক্ত অঞ্চল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের এই ঐতিহাসিক স্থানটি বর্তমানে অবহেলিত। নেই কোনো দৃশ্যমান স্মৃতিস্তম্ভ অথবা মুক্তাঞ্চল স্মৃতি ধরে রাখার স্থাপনা! ১৯৯৩ সালে জগন্নাথদীঘির পাড়ে আয়োজিত এক স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এখানে পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়, সমাজকল্যাণ কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের ঘোষনা দিলেও ২৬ বছর পরেও এসবের কিছুই আলোর মুখ দেখেনি।

এই বিষয়ে জগন্নাথদীঘি মুক্তাঞ্চল স্মৃতি পরিষদের কর্মকর্তারা বলেন, প্রত্যেক বছরের ২৮ নভেম্বরে এখানে সকল মুক্তিযোদ্ধারা আসেন তাদের স্মৃতিচারণ করেন, কিন্তু এখানে ঐতিহাসিক অনেক ঘটনা ঘটেছে তবুও এই স্থানটি স্মরণীয় করে রাখার মত কোনো স্থাপনা আজ পর্যন্ত কেউ তৈরী করেনি। জগন্নাথদীঘিকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। সকলের দাবি এখানে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্থাপনা তৈরী হোক অথবা ২৬ বছর আগে ঘোষনাকৃত দাতব্য চিকিৎসালয় তৈরী করা হোক দ্রুত। তাছাড়া এই ঐতিহাসিক জগন্নাথদীঘি মুক্ত দিবস সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক তথ্য জানাতে পারলে মুক্তিযুদ্ধেও চেতনায় তরুণ প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

সবুজ বাংলা নিউজ পরিবার

জিয়াউর রহমান হায়দার

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮১৭ ৪৫০০৯৬

মোঃ নাজমুল হক

নির্বাহী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৭১০ ৯১৩৩৬৬

রানা মিয়া

সহযোগী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮৮১ ১৪১৮৬৬