৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

তৃণমুলের ত্যাগী ও রাজপথের নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি চায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার: সদ্য শেষ হওয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে কাউন্সিলরদের ভোটে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ এবং কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি হওয়ায় জাতীয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং দেশী-বিদেশী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রশংসা করেছে বিএনপি’র। এর মাধ্যমে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের কাউন্সিল সফলভাবে শেষ হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা অতিতের ন্যায় আর ভুল করবেনা নেতৃবৃন্দ। দলছুট, অন্য দল থেকে আসা হাইব্রীড নেতাদের বাদ দিয়েই গঠন করা হবে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সর্বস্তরের কমিটি।

২০১৭ সালে ৮ই ফেব্রুয়ারী চৌদ্দগ্রামের ত্যাগী ও পূর্বের কমিটির পরীক্ষিত নেতাদের উপেক্ষিত রেখে কামরুল হুদাকে আহবায়ক, সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজুকে সদস্য সচিব করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে যোগ্য পদে স্থান পায়নি জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি কাজী নাছিমুল হকের অনুসারী নেতাকর্মীরাও। একই সময় উপজেলা বিএনপি’র সর্বশেষ কমিটির সভাপতি জিএম তাহের পলাশীকে আহবায়ক, এয়াছিন পাটোয়ারীকে ১নং যুগ্ম আহবায়ক এবং সাবেক কমিশনার হারুনুর রশিদকে সদস্য সচিব করে পৌর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি। কমিটি ঘোষনার ৪ মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনার নির্দেশনা থাকলেও বিগত আড়াই বছরেও সম্মেলন কিংবা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি আহবায়ক কমিটি। কমিটি ঘোষনার পরপরই রাতের আঁধারে কমিটি ঘোষনা করেছে দাবী করে ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে পূর্বের কমিটির নেতাকর্মীরা। উপজেলা বিএনপি’র কার্যালয় দখলে রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তারা।

পূর্বের উপজেলা কমিটির সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, সেক্রেটারী সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণের নেতৃত্বে ঘোষিত আহবায়ক কমিটি বাতিলের দাবীতে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের আল্টিমেটাল দেয় তারা। এছাড়া নতুন আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আবু তাহের মজুমদার, সদস্য অহিদ উল্লাহ ভূঁইয়া, একেএম শাহআলম, মীর হোসেন মীরুসহ অনেকে নতুন আহবায়ক কমিটি প্রত্যাখ্যান করে কমিটি বাতিলের দাবী জানানো নেতাকর্মীদের সাতে একাত্মতা প্রকাশ করে। কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন পোগ্রামে অংশ নেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন ফিরোজ, উপজেলা বিএনপি নেতা আবু তাহের মজুমদার, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা জিয়াউর রহমান মজুমদার, বিএনপি নেতা অহিদ উল্লাহ ভূঁঞা, খন্দকার মীর হোসেন, একেএম শাহআলম, এডভোকেট রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা এনু, আবদুর রাজ্জাক, যুবদল সেক্রেটারী নাজমুল হক, পৌর যুবদল সভাপতি মোস্তফা কামাল অভি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হামিদ উদ্দীন মজুমদার সুমন ও সেক্রেটারী গাজী কবিরসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

কাজী নাছিমুল হকের অনুসারী হিসেবে খ্যাত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তোফায়েল হোসেন জুয়েল ও সেক্রেটারী আমিনুল ইসলাম ছুট্টুর নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নেয়। একই সময়ে নতুন কমিটির আহবায়ক কামরুল হুদার নেতৃত্বে কমিটির অধিকাংশ সদস্য সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন দলীয় পোগ্রামে অংশ নেয়। উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসনাত জোবায়েরের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একটি অংশ নতুন আহবায়ক কামরুল হুদার সাথে অবস্থান নিয়ে পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচী পালন করে।

মুলত: চৌদ্দগ্রামে নতুন আহবায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ৩টি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে তৃণমুল এমনকি ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতার পরিচয়কে পাশ কাটিয়ে তারা পরিচিত হয়ে উঠেন অমুক-তমুক ভাইয়ের অনুসারী নেতা হিসেবে। ফলে এক পক্ষ দলীয় কর্মসূচী পালন করলে আরেক পক্ষ নিষ্ক্রীয় ভূমিকা পালন করে। একপক্ষের পূর্বঘোষিত কর্মসূচী পালনে বাধা প্রদানের অংশ হিসেবে অন্যপক্ষ থানায় গিয়ে পাল্টা পোগ্রামের কথা বলে অভিযোগ প্রদান করে। ফলে বিপরীত পক্ষের পোগ্রাম সহজেই বাতিল ঘোষনা করে প্রশাসন। এর ফলে কোনভাবেই সংগঠিত হতে পারেনি নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের অনেক কর্মীই জানান, তৃণমূল থেকে যথেষ্ট চাপ থাকলেও উপজেলা নেতারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেনা। এরা দলের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

ওলামা দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও ধানের শীষ প্রতিকে অংশ নেয়া মুন্সীরহাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াউর রহমান মজুমদার জানান, উপজেলার বিভক্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ তৃণমূল এবং দল। এসব বিভক্তি দারুণভাবে প্রভাব ফেলেছে দলে। বিগত ২০১৮ সাল থেকে রাজপথে কোন আন্দোলনই করতে পারেনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি। এমনকি সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে চৌদ্দগ্রামে বিএনপি থেকে প্রার্থী দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও একমাত্র বিভক্তির কারণে দলীয় প্রার্থী দেয়নি কেন্দ্র। ফলে প্রার্থীতা পায় জোট শরিক জামায়াত। বিগত নির্বাচনে কোনভাবেই রাজপথে নামতে পারিনি আমরা। এর ব্যর্থতা বর্তমান কমিটির উপরই বর্তায়।

এদিকে পূর্বের কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণ জানান, ২০০৯ সালে আমার এবং তাহের পলাশীর নেতৃত্বে কমিটি সবসময় রাজপথে ছিল। যা ঐ সময়ের মিছিল, পিকেটিং, মহাসড়ক অবরোধই প্রমান করে। ২০০৯ থেকে ১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অত্যন্ত সফলতার সাথে দল পরিচালনা করি। ২০১৬ সালের জুলাই-আগস্টে আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে জেলা কমিটি নতুন একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করে। ঘোষনার ২-৩ দিন পরই কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে আমাদের পূর্বের কমিটি আবারো বহাল রাখে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে দলীয় ঐক্য বিনষ্টকারী চক্রটি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা জেলা কমিটিকে ভুল বুঝিয়ে আবারো আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করে। আমি চেষ্টা করেছিলাম নতুন কমিটির সাথে কাজ করার। কিন্তু তাদের অবহেলা এবং গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যক্রম দেখে ঘোষিত কমিটির বেশ কয়েকজন আহবায়ক, সিনিয়র সদস্যদের নিয়ে দল পুনর্গঠনে কাজ শুরু করি। পালন করি বিভিন্ন দলীয় ও স্থানীয় কর্মসূচী। তৃণমুলকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে অন্তত ১২টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি প্রদান করি। আমার প্রদানকৃত উক্ত কমিটি সমূহের কার্যক্রম এখনও বহাল রয়েছে।

দলীয় ঐক্যের বিষয়ে তিনি জানান, দল চাইলে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি আছি। ঐক্যের স্বার্থে, দেশনেত্রীর মুক্তির লক্ষ্যে দলকে ঐক্যবদ্ধ করা একান্ত জরুরী। আশা করি জেলা ও কেন্দ্র দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রয়াসে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় একটি স্বচ্ছ নতুন কমিটি প্রদান করবেন। তিনি আরও যোগ করেন, ইতিমধ্যেই কমিটি সমন্বয় কিংবা নতুন আঙ্গীকে কমিটি প্রদানের বিষয়ে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পরামর্শে কেন্দ্রে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা কেন্দ্র হয়ে জননেতা তারেক রহমানের হাতে পৌঁছাবে।

উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, পৌর বিএনপি’র আহবায়ক এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাগোদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম তাহের পলাশী বলেন, দলের এখন দুঃসময়। বিএনপি চেয়ারপার্সন দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্ধি। তারুন্যের অহংকার তারেক রহমান দেশান্তরি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো পাশ্ববর্তী ভারতের সাথে বিভিন্ন গোপন চুক্তি সম্পাদন করে দেশকে আজ গভীর অন্ধকারের দিকে নিমজ্জিত করেছে বর্তমান সরকার। দেশের স্বার্থে, দেশনেত্রীর মুক্তির দাবীতে জোরালো আন্দোলন, সংগ্রাম গড়ে তোলা দরকার। কিন্তু দলীয় বিভক্তির ফলে রাজপথে আন্দোলনও করা যাচ্ছে না। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথ দখলে রেখেছিলাম আমরা। কিন্তু এখন দখলতো দূরের কথা রাজপথেই নামতে পারেনা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি। তাই চৌদ্দগ্রামে দলীয় বিভক্তি দুর না হলে আন্দোলন সফল হবেনা। একটি পক্ষ সবসময় সিনিয়র এবং পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করে। তাদেরকে এসব মানসীকতা দূর করতে হবে। ব্যক্তিগত অর্জন কিংবা স্বার্থকে পরিহার করে সর্বোপরি আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে দেশের স্বার্থে, দেশনেত্রীর স্বার্থে। এজন্য প্রয়োজন সবার সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ চৌদ্দগ্রাম বিএনপি।

সবুজ বাংলা নিউজ পরিবার

জিয়াউর রহমান হায়দার

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮১৭ ৪৫০০৯৬

মোঃ নাজমুল হক

নির্বাহী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৭১০ ৯১৩৩৬৬

রানা মিয়া

সহযোগী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮৮১ ১৪১৮৬৬