২৩শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সবকিছু থাকার পরও ফুটওভারের নীচেই বসবাস শ্যামলার

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন: শ্যামলা বেগম। বয়স আনুমানিক ষাট-পয়ষট্টি বছর। শরীরের ত্বকের প্রতিটি স্থানেই ভাজ পড়ে গেছে। পাটের রশির সহযোগিতায় ছোট ছোট এলোমেলো চুল গুলো খোপা করে বেঁধে রেখেছেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার লক্ষীরচর গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার স্ত্রী। তার স্বামী দুলাল মিয়া পাবনার একটি মাজারের খাদেম হওয়ায় সারাক্ষণ মাজার নিয়েই পড়ে থাকেন। স্ত্রীর খবর নেননা কখনো। অথচ স্বামী, পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে সুখেই চলছিল তার সংসার। প্রাকৃতিক দূর্যোগ নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ঘর বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব প্রায় শ্যামলা তারপরও সন্তানদের আগলে রেখে কোনো মতে দিনাতিপাত করেছিলেন।

নিয়তির কী লীলাখেলা। বড় ছেলে হুমায়ুন কবিরকে বিয়ে করিয়ে আনার পর থেকে শুরু হয় মা শ্যামলা বেগমের উপর পুত্রবধূ কর্তৃক নির্যাতনের স্টিম রোলার। বড় ছেলের বউ সোমা প্রায়ই তাকে অত্যাচার করত। সোমা সংসারে আসার পর থেকে গুয়ান্তানামো বে কারাগার এর মতই কাটছিলো তার সংসার জীবন। জীবনের প্রতিটি প্রহর কাটছিলো ছেলের বউয়ের হাতে নির্যাতন সহ্য করে। পরে ছোট দুই ছেলেও বিয়ে করে নেয়। এদিকে বড় ছেলে প্রথম বউ সোমাকে রেখে মিলন নামে আরেক নারীকে বিয়ে নিয়ে আসে। এই নিয়ে তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকতো বলে জানায় শ্যামলা বেগম। আর এ কারণেই দিনদিন পুত্রবধূদের নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। বড় বউদের দেখাদেখি অনুজরাও শুরু করে বিভিন্ন নির্যাতন। কথায় কথায় শ্বাশুড়ীর চুলের মুঠি ধরে ছেলেদের সামনে লাঠি দিয়ে পেটাতো তারা। নির্যাতনের এমন করুন আত্মনাদগুলো কখনোই তার ছেলেদের কানে পৌঁছতো না।

যে ছেলে মেয়েদের জন্য মায়ের পরম স্নেহ কাননে আছে ভালোবাসার উষ্ণ ছায়া। সেই মমতাময়ী মায়ের সাথে সন্তান ও পুত্রবধূরা করেছে বেঈমানী। একজন মমতাময়ী মায়ের আঁচলে অনেক সন্তানের জায়গা হলেও আজব এই দুনিয়ায় অনেক সন্তানের ঘরে একজন মায়ের থাকার জায়গা পর্যন্ত হয়না। শ্যামলা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, সন্তানদের অবহেলা আর পুত্রবধূদের নানাবিধ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত দুই সপ্তাহ আগে সড়কপথে নানা ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে দীর্ঘ সময় ধরে পায়ে হেঁটে চৌদ্দগ্রাম আসেন তিনি। তারপর থেকে চৌদ্দগ্রাম বাজারের উত্তর পাশে সরকারি কলেজ সংলগ্ন ফুটওভার ব্রীজের নিচে নানা কষ্টে দিনাতিপাত করছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খেজুর পাতার তৈরী ঝাড়– বানিয়ে বিক্রি করে যা আয় করেন তা দিয়ে বাজার করে কুড়িয়ে পাওয়া কয়েকটি দধির পাতিলে খাবার রান্না করে কোনভাবে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন।

যানবাহনের উচ্চ শব্দের হর্ণ, যান্ত্রিক কোলাহল ও মশার কামড় এর কারণে বেশিরভাগ সময়ই বিনিদ্রায় রাত্রিযাপন করছেন। মাঝেমধ্যে পথচারিদের কাছ থেকে পাঁচ-দশ টাকা চেয়ে নেন তিনি। এভাবে যা হাতে আসে তা দিয়ে আশেপাশের দোকান থেকে নিজের পছন্দমত খাবার কিনে খান। এভাবেই চলছে অসহায় শ্যামলার বর্তমান জীবন।

পুত্রবধূদের নির্যাতনের করুন চিত্র এখনো তার চোখে ভাসে। নির্যাতনের সে কথা মনে করে ঘুমরে কেঁদে ওঠেন শ্যামলা বেগম। স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সকলের জন্যই তার মন পড়ে। সন্তানদের মায়ায় কাছে ছুটে যেতে চায় তার ব্যাকুল মন। এখন সময়ই বলে দিবে শ্যামলার জীবনের শেষ পরিণতি কী!

এবিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ত্রিশালের ইউএনও এর সাথে যোগাযোগ করে তাকে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

সবুজ বাংলা নিউজ পরিবার

জিয়াউর রহমান হায়দার

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮১৭ ৪৫০০৯৬

মোঃ নাজমুল হক

নির্বাহী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৭১০ ৯১৩৩৬৬

রানা মিয়া

সহযোগী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮৮১ ১৪১৮৬৬