১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম সড়কের গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রীজে বিপজ্জনক ভাঙ্গন

bty

মো. বেলাল হোসাইন: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে খ্যাত অতি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম সড়ক। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবাহী ও যাত্রিবাহী পরিবহণ চলাচল করে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যানজট থাকলে বিকল্প সড়ক হিসেবে এই রাস্তা দিয়েই ঢাকা-চট্রগ্রামের অধিকাংশ গাড়ি চলাচল করে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য স্মৃতি বিজড়িত এ সড়ক। এ সড়ক ধরেই পাকবাহিনী চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও চাঁদপুর, নোয়াখালীর কিছু অংশে চলাচল করতো এবং মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিত। সড়কটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ও মুন্সীরহাট ইউনিয়নের সীমান্ত নির্ধারনকারী ফেলনা-চাঁন্দিশকরা ষ্টীল ব্রীজ। এ ব্রীজটি ব্যবহার করে পাকবাহিনী মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনা করায় ১৯৭১ সালের মাঝামাঝিতে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার মেজর এনামুল হকের নেতৃত্বে ব্রীজটি বোমা মেরে নষ্ট করে ফেলা হয়।

স্বাধীনতার পর বাহাদুর কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে সরকারী সহায়তায় ব্রীজটি পূণ: নির্মাণ করা হয়। যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় পরবর্তীতে ১৯৮৬-৮৭ সালে ষ্টীল ব্রীজটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে আর ব্রীজটি সংস্কার কিংবা নির্মাণ করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের চাঁন্দিশকরা ও ফেলনা সংলগ্ন ষ্টীল ব্রীজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্রীজটির দুই পাশের দুই অংশের পাটাতন উঠে ভয়ংকরভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। এতে করে যে কোন সময় ব্রীজটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে যে কোন ধরনের বড় দুর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সড়কে চলমান মালবাহী ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্রীজটির উপর দিয়ে যাতায়াত করছে। এ ব্রীজের ভাঙ্গা পাটাতনে চাকা আটক হয়ে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ৩-৪টি ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকজন যাত্রীর মাথা ফেটে যাওয়াসহ অনেক যাত্রী আহত হয়েছে এসব দুর্ঘটনায়।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় ভাঙ্গা অংশে গাড়ি আটক হয়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে আটকে পড়া গাড়িগুলো বিকল্প সড়ক ধরে চলাচল করতে বাধ্য হয়। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানায়, গত ১০-১২ বৎসরে ব্রীজটির বিভিন্ন অংশ বেশ কয়েকবার ভেঙ্গে পড়েছে। পাটাতনের বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দিলে সওজ কর্তৃপক্ষ ভেঙ্গে পড়া অংশে নুুতুন করে পাটাতন বসিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করে। নতুন বসানো এসব পাটাতন ৬ মাস কিংবা ১ বৎসর পর আবার ভেঙ্গে পড়ে।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে ব্রীজটি নতুন করে নির্মাণের দাবী করলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগ এভাবেই গত ৮-১০ বৎসর ধরে ভেঙ্গে পড়া অংশে পাটাতন বসিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করছে। এছাড়াও বন্যার কারনে ব্রীজটির নিচের ইট ও মাটি সড়ে পড়েছে। অতি দ্রুত ব্রীজটি সম্পর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ করা না হলে বড় কোন দুর্ঘটনার দায়ভার কর্তপক্ষকেই নিতে হবে বলেও জানান তারা।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা যায়যায়দিনকে জানান, ব্রীজটি নির্মাণের বিষয়টি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা হয়েছে। এছাড়াও ব্রীজটি দ্রুত নির্মাণে স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব মুজিবুল হক সাহেব গত সপ্তাহে আমাকে নক দিয়েছে। যেহেতু ব্রীজটি এলজিইডির তত্বাবধানে সেহেতু আমরা সময়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্রীজটি নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সবুজ বাংলা নিউজ পরিবার

জিয়াউর রহমান হায়দার

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮১৭ ৪৫০০৯৬

মোঃ নাজমুল হক

নির্বাহী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৭১০ ৯১৩৩৬৬

রানা মিয়া

সহযোগী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮৮১ ১৪১৮৬৬