২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

ভারতীয় গরু না আসায় লাভের প্রত্যাশা করছেন চৌদ্দগ্রামের খামারীরা

স্টাফ রিপোর্টার: এবার ভারত ও মায়ানমার থেকে গরু না আসায় লাভের প্রত্যাশা করছেন চৌদ্দগ্রামের গরু খামারীরা। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ছোট বড় কয়েকটি খামার ঘুরে এবং খামারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন পবিত্র কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করণে শেষ মুহুর্তের ব্যস্ততায় খামারীরা। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় এখানে গড়ে ওঠেছে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক গরু ও ছাগলের খামার। এসব খামার গুলোতে দেশী গরুর পাশাপাশি ব্রাহামা, ভোল্টার, শাহী ওয়ার্ল্ড, পিজিএম, রাজস্থানী ভোল্টারসহ নানা প্রজাতির গরু পালন করছেন তারা।

কোন প্রকার নিষিদ্ধ খাবার, ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ছাড়াই শুধুমাত্র খৈল, ভূষি, কচুরিপানা, ঘাস ও খড়সহ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে এসব গরু মোটাতাজা করেছে এখানকার খামারীরা। প্রতিটি খামারে কয়েকজন কর্মচারী গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন চব্বিশ ঘন্টা। এছাড়া খামার মালিকরাও সর্বোচ্চ মনিটরিং করছেন গরুগুলোকে, যাতে কোন প্রকার রোগ জীবানু বা ভাইরাস আক্রমণ করতে না পারে। এবার দেশীয় গরুর চাহিদা থাকায় এবং ভারতীয় গরুর আমদানী বন্ধ থাকায় এখানকার খামারীরা ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন। তবে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ভারতীয় বর্ডার সংলগ্ন হওয়ায় কিছুটা আশংকার কথা জানান কয়েকজন খামারী।

মানহা এগ্রো ফার্ম এর স্বত্ত্বাধিকারী চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার ফালগুনকরা গ্রামের মৃত শামসুদ্দীন চৌধুরীর ছেলে মো. আরমান চৌধুরী, মীর আরজু এগ্রো ফার্ম এর স্বত্ত্বাধিকারী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ডাকরা গ্রামের মৃত মীর আলী আহমদ ভেন্ডারের ছেলে মীর আলমগীর হোসেন, ও সাব্বির এগ্রো ফার্ম এর স্বত্ত্বাধিকারী পৌর এলাকার নবগ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ডা. মো. বেলাল হোসেন বলেন, যদিও পাশ্ববর্তী দেশ ভারত ও মায়ানমার থেকে গরু আমদানী বন্ধ রেখেছে সরকার। তারপরও কিছু কিছু সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে গরু প্রবেশ করছে বলেই আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে জানতে পারছি। এজন্য আমাদের মত দেশীয় খামারীরা খামার ব্যবসায় লোকসান হওয়ার শংকায় আছে। এজন্য সরকার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো কার্যকর কর্মসূচির প্রত্যাশায় রয়েছি। আমরা আশা করি, শেষের দিকেও যাতে অবৈধভাবে এদেশে ভারত ও মায়ানমার থেকে কেউ গরু আমদানী করতে না পারে সেদিকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আরো জোর নজরদারী দিবে। কেননা, ব্যবসায়ীরা লোকসান দেখলে পরবর্তীতে খামার ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এজন্য সরকারী সহযোগিতা প্রয়োজন। খামার ব্যবসায় সফলতা পেলে ভবিষ্যতে এই ব্যবসাটিকে আরো প্রসারিত করার ইচ্ছা পোষন করেন তারা।

এবিষয়ে চৌদ্দগ্রাম প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আজহার উল আলম বলেন, উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীদেরকেও আমরা আমাদের তালিকায় অন্তভূক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর মাধ্যমে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। ক্ষুরা রোগ ও অ্যানথ্র্যাক্স ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে পশু গুলোকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পবিত্র কোরবানী উপলক্ষে এবারে উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে, আমরা আশা করছি, এখানকার খামারীদের উৎপাদিত পশু থেকে সে চাহিদা খুব সহজভাবেই মিটানো সম্ভব হবে।

সবুজ বাংলা নিউজ পরিবার

জিয়াউর রহমান হায়দার

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮১৭ ৪৫০০৯৬

মোঃ নাজমুল হক

নির্বাহী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৭১০ ৯১৩৩৬৬

রানা মিয়া

সহযোগী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮৮১ ১৪১৮৬৬