১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

“কাকৈরখোলা নিউলাইফ একাডেমি” ধারাবাহিক সফলতায় শীর্ষে

bty

মোঃ বেলাল হোসাইনঃ আলোকিত মানুষ গড়তে চাই আলোকিত শিক্ষক ও শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ। শিক্ষক ও সুন্দর পরিবেশের আলোতেই আলোকিত হয় একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। যে আলোর প্রভাবে আলোকিত হয় একটি সমাজ, গ্রাম সর্বোপরি একটি দেশ। শিক্ষার আলোয় আলোকিত দেশ, জাতি তথা বিশ্ব মানবতার মুক্তির মশাল নিয়ে সবুজ শ্যামল ছায়ায় ঘেরা প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে ডাকাতিয়ার তীরে ঘেসে গড়ে উঠা যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আদর্শ মানুষ গড়ার লক্ষে বিগত দশর বছর ধরে অনবরত আলো ছড়িয়ে আসছে, সেটি হল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী “কাকৈরখোলা নিউলাইফ একাডেমি”। সবুজ শ্যামল শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে খুব সুন্দর, কোলাহল ও শব্দ দূষণমুক্ত, অত্যন্ত প্রাণোচ্ছল সতেজ ও জ্ঞান অর্জনের সামগ্রিক আয়োজনে সমৃদ্ধ এ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদেরকে সত্যিকার অর্থেই এক একজন ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ছোট্ট পরিসরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের মাঠে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক গঠনেও ভূমিকা রাখা হয়। বিদ্যালয়টির প্রতিটি ক্লাশরুমের পাশেই রয়েছে কুরআন ও হাদীসের বাণী এবং বিখ্যাত সব মনিষীর বাণী। যেসব বাণী শিক্ষার্থীদের নৈতিক গঠনে ও আতœনির্ভরশীল হতে সহায়তা করে। তাছাড়া গতানুগতিক অন্যান্য কিন্ডার গার্ডেনের বাইরে এখানে রয়েছে নূরাণী শিক্ষার ব্যবস্থা। প্রতিদিন দক্ষ একজন নূরাণী শিক্ষকের তত্ববধানে নূন্যতম ১ ঘন্টা সময়ে সকল শিক্ষার্থীদের নূরানী ট্রেনিং প্রদান করা হয়। যা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষাকে সুসংহত করে। আর এমন সুন্দর পরিবেশ যা সত্যিই ভালো মানুষ গঠনের জন্য কাম্য।

২০০৯ সালে মাত্র ৭৫জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে প্লে থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরই বাড়তে থাকে ছাত্র-ছাত্রী। বর্তমানে এখানে ১৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং ৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছে। ২০১১ সালের সমাপণিতে প্রথম অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ পাশের রেকর্ড গড়ে। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১১ থেকে সর্বশেষ ২০১৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল সমাপণিতে ধারাবাতিকভাবে শতভাগ পাশের রেকর্ড ধরে রেখেছে ঐহিত্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫জন ট্যালেন্টফুলে এবং ২ জন সাধারন গ্রেডে বৃত্তিলাভ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের সমাপণিতে স্কুলটি থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী সমাপণিতে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫জন এ প্লাস, ৯ জন এ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়। এদের মধ্যে ২ জন ট্যালেন্টফুলে এবং ৩ জন সাধারন গ্রেডে বৃত্তিলাভ করে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ সেলিমের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অন্যান্য শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে “কাকৈরখোলা নিউ লাইফ একাডেমি” আজকের অবস্থানে এসে পৌছেছে। ধোড়করা ও চৌধুরীবাজারসহ আশেপাশে সরকারী, বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডার গার্টেনের ভীড়ে প্রতিষ্ঠার মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই এমন সফলতায় পৌছানো সম্ভব হয়েছে প্রধান শিক্ষকের সুন্দর পরিকল্পনার কারণে।

“কাকৈরখোলা নিউলাইফ একাডেমি” এর প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ সেলিম জানান, গতাণুগতিক সবার বাইরে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা না করে স্কুলের সফলতার মাধ্যমে অত্র এলাকাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মধ্যে তুলে ধরার লক্ষ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলি। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার প্রাথমিক ভীত গড়ে উঠে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে। এখানে যে শিক্ষার্থী মেধার পরিচয় দিয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়না। প্রাথমিকে ভালো ফলাফলে উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরেই মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়। তাই আমরা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরেই ভালো ফলাফল অর্জনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। তাছাড়া অধিকাংশ কিন্ডার গার্টেন কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা নাই। আজকালের অভিভাবকরা মনে করে কিন্ডার গার্টেনে বাচ্চাদের পাঠালে সকালের মোক্তব পড়া বন্ধ হয়ে পড়ে বাচ্চাদের। এতে করে বাচ্চারা নৈতিকতার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা শুরু থেকেই একজন দক্ষ্য নূরাণী ট্রেনিংপ্রাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষকের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ক্লাশ ও নূরাণী ট্রেনিং প্রদান করে থাকি। এসময় তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে শতভাগ পাশের রেকর্ড ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি উপজেলা ভিত্তিক প্রাথমিক বৃত্তিতেও প্রতিবছর মেধার স্বাক্ষর রাখছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের সার্বিক ভালো ফলাফলের জন্য তিনি সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সচেতনতাকে অন্যতাম কারণ বলে মনে করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ ও আন্তরিকতাকেও ভালো ফলাফলের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।

সবুজ বাংলা নিউজ পরিবার

জিয়াউর রহমান হায়দার

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮১৭ ৪৫০০৯৬

মোঃ নাজমুল হক

নির্বাহী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৭১০ ৯১৩৩৬৬

রানা মিয়া

সহযোগী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮৮১ ১৪১৮৬৬